03 August 2021 BENGALI Murli Today – Brahma Kumaris
Read and Listen today’s Gyan Murli in Bengali
2 August 2021
Morning Murli. Om Shanti. Madhuban.
Brahma Kumaris
আজকের শিব বাবার সাকার মুরলি, বাপদাদা, মাধুবন। Brahma Kumaris (BK) Murli for today in Bengali. This is the Official Murli blog to read and listen daily murlis.
"মিষ্টি বাচ্চারা - বাপদাদার স্মরণ আর ভালোবাসা নিতে হলে সেবাপরায়ণ হও, বুদ্ধিতে জ্ঞান ভরপুর থাকলে তার বর্ষণ করো"
প্রশ্নঃ --
কোন্ নেশা ভরপুর বাদলকেও উড়িয়ে নিয়ে যায়, বর্ষণ করতে দেয় না ?
উত্তরঃ -:-
যদি অপ্রয়োজনীয় দেহ বোধের নেশা আসে, তাহলে পরিপূর্ণ বাদলও উড়ে যাবে । বর্ষণও যদি করে তাহলে সার্ভিসের বিরুদ্ধে ডিস সার্ভিস করবে । বাবার প্রতি যদি ভালোবাসা না থাকে, তাঁর সঙ্গে যদি যোগ না থাকে, তাহলে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও খালি থাকবে । এমন খালি বাদল অন্যের কল্যাণ কিভাবে করবে ।
ওম্ শান্তি । বাকি অল্প কিছু বাদল অবশিষ্ট আছে । যেমন বর্ষা যখন কম হয়ে যায়, তখন সাগরের উপর বাদল বা মেঘ থাকে না, ঠান্ডা হয়ে যায় । এখানেও তেমন ঠান্ডা হয়ে যায় । বাদল বা মেঘ তাদেরই বলা হবে, যারা রিফ্রেশ হয়ে গিয়ে বর্ষণ করায় । যদি কেউ বর্ষণ না করায়, তাহলে তাকে তো বাদল বলাই যাবে না । এ হলো জ্ঞান বাদল । ও হলো বৃষ্টির বাদল । জ্ঞানের বাদল আসে, যখন সময় হয় । তারা রিফ্রেশ হয়ে গিয়ে অন্যকে রিফ্রেশ করে । এই বাদলও নম্বরের ক্রমানুসারে হয় । কেউ তো খুব জোরে বর্ষণ করায় । বাদলের কাজ হলো বর্ষণ করানো আর ঝিমিয়ে যাওয়া গাছকে তরতাজা করানো । যাদের মধ্যে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে, তারা লুকিয়ে বসে থাকে না । তাদের বাবার নির্দেশেরও প্রয়োজন নেই । তারা তো বাদলই । তারা আসেই ভরপুর বর্ষণ করাতে । যেখানেই দেখবে অনুর্বর জমি, সেখানেই গিয়ে ফসল ফলানো উচিত । মহারথী বাচ্চারা তো সব সেন্টারকেই ভালোভাবে জানে । বাবাও সবসময় বলেন, সেবাপরায়ণ বাচ্চাদের আমার স্মরণ আর ভালোবাসা দিও । ভালো ভালো বাদল সেবাতে যাবে । প্রদর্শনীতেও সবাই একরস বোঝায় না । মুখ্য বিষয়ই হলো এই । গীতার ভগবান হলেন নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা, সাকারী শ্রীকৃষ্ণ নয় । বোঝানোর জন্য খুব সুন্দর কায়দা চাই । সারাদিন এই খেয়াল থাকা উচিত যে, সবাইকে গিয়ে জাগাবো । সবাই ঘোর অন্ধকারে পড়ে আছে । সবাইকে ভালোবাসার সাথে বোঝাতে থাকো যে, তোমাদের দুইজন বাবা । এক হলো জাগতিক, আর দ্বিতীয় হলো অসীম জগতের বাবা । এই অসীম জগতের বাবাকেই পতিত পাবন বলা হয় । বাচ্চারা, তোমরা এখন সুবুদ্ধি পেয়েছো । দুনিয়ার মানুষকে যদিও দেখে মনে হয় তারা আড়ম্বরের মধ্যে আছে, কিন্তু তারা হলো সেই পাথর বুদ্ধির । বাবা নিজেই বলেন, এই সাধুদেরও আমাকেই উদ্ধার করতে হবে । ওরাও রচনা আর রচয়িতাকে জানে না । সত্যযুগ থেকে শুরু করে এই জ্ঞান প্রায় লোপ হয়ে যায়, কিন্তু একথা কেউই জানে না । শাস্ত্রতে এই জ্ঞান নেই । শাস্ত্রের দ্বারা কারোর সদগতি হতে পারে না, গীতার সম্মান কতখানি, কিন্তু সে তো হলো ভক্তিমার্গ । বাবা তো পতিত পাবন, তিনি বসেই রাজযোগ শেখান । তাই রাজত্বের জন্য অবশ্যই নতুন দুনিয়ার প্রয়োজন । বাবা এসেই রাজযোগ শেখাবেন । তোমরা এও এখন জানতে পেরেছো যে, যাদের পূর্ব কল্পে বোঝানো হয়েছে, তাদেরই এখন বোঝাবেন, তখন তারা বুঝবে । এই লড়াই কোনো ওই লড়াই নয়, যেমন সবসময় চলে এসেছে । ৮ – ১০ বছর চলে তারপর বন্ধ হয়ে যাবে । ড্রামা অনুসারে যে বোম্বস তৈরী হয়েছে, তা রেখে দেওয়ার জন্য নয় । পতিত মানুষের মৃত্যু ব্যতীত সত্যযুগ আসবে না । শান্তি কিভাবে স্থাপন হবে — এও বোঝাতে হবে । শান্তি স্থাপন করা বা শ্রেষ্ঠাচারী দুনিয়া বানানো, এ তো এক বাবারই কাজ । বাবা বলেন, অন্যদের সঙ্গে বুদ্ধির যোগ ছিন্ন করে একের সঙ্গেই জুড়তে হবে । দেহ সহ যা কিছুই দেখা যায়, এই সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে । এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে, তাই ঘরকে স্মরণ করতে হবে । তোমরা এখন বুঝতে পারো যে, এ হলো মৃত্যুলোক । আমরা অমরলোকে যাওয়ার জন্য অমর কথা শুনছি । দেবতাদের বলা হয় দৈবী গুণ সম্পন্ন মানুষ । এখানে তো একজনও এমন নেই । কৃষ্ণের নামেও কতো গ্লানি সূচক কথা লিখে দিয়েছে । কিছুই বুদ্ধিতে আসে না ।
বাচ্চারা, এখন তোমাদের খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করতে হবে, দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে । দৈবী গুণ কাকে বলা হয় — তাও বোঝানো হয় । অবশ্যই সম্পূর্ণ নির্বিকারী হতে হবে । এটাই হলো প্রথম প্রধান গুণ । তোমরা সব জায়গাতেই দেখতে পাবে যে, পবিত্রদের সামনে অপবিত্ররা মাথা নত করে । সত্যযুগে সবাই পবিত্র, তাই সেখানে কোনো মন্দির থাকে না । তারপর যখন পূজারী হয়, তখন মন্দির তৈরী করে, যারা পবিত্র ছিলো, তারাই আবার পতিত হয়ে যায় । এ হলো তোমাদের অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম । বাবা বলেন – তোমাদের এই পুরানো দুনিয়াকে, পুরানো শরীরকেও ভুলে যেতে হবে । এই পুরানো দুনিয়া এখন শেষ হয়ে যাবে । এ শেষ হতে দেরী লাগবে না । এই পুরানো দুনিয়া, ধন – দৌলত, সম্পত্তি সব গেল বলে । খুব অল্প সময় বাকি আছে । দুনিয়াতে কেউ জানেই না যে, এই পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে । তোমরা তো শোনাও, কিন্তু বিশ্বাস হবে, তবে তো না । ভগবান উবাচঃ যখন বুঝবে তখন বুদ্ধিতে বসবে ।
বাচ্চারা, বাবা তোমাদের বলেন — নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো । বাচ্চারা জানে যে, অসীম জগতের বাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । তিনি হলেন সমস্ত আত্মাদের পিতা । সব হলো ভাই – ভাই । স্বর্গতে সব ভাই – ভাই সুখী ছিলো, কলিযুগে সব ভাই – ভাই দুঃখী । সকল আত্মারাই এখন নরকবাসী । কেবল আত্মা তো থাকবে না । শরীরও তো চাই, তাই না । বাচ্চারা, তোমাদের এখন আত্ম – অভিমানী হতে হবে, এতেই পরিশ্রম । এ মাসির বাড়ী নয় । এই অবস্থা তখন দৃঢ় হবে, যখন প্রথমে এই নিশ্চিত হবে যে, পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের পড়ান । শিব বাবা এই শরীরের দ্বারা পড়াতেই আসেন । আমরাও শরীরের দ্বারাই শুনি, ধারণও করি । সংস্কার অনুযায়ী মানুষ এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে । বাবা যেমন লড়াই যারা করে, তাদের উদাহরণ দেন । লড়াইয়ের সংস্কার নিয়ে যায়, আবারও সেই সংস্কার পরের জন্মে তাদের মধ্যে এসে যায় । এখন বাবার সংস্কারও তোমরা জানো যে, নিরাকার, অসীম জগতের বাবার মধ্যে কি সংস্কার আছে ! তিনি হলেন মনুষ্য সৃষ্টির বীজ রূপ । তিনি পতিত – পাবন এবং জ্ঞানের সাগর । তিনি এসেই আমাদের পবিত্র করবেন । বাবা বলেন — তোমরা আমাকে স্মরণ করো, তাহলে তোমাদের জন্ম – জন্মান্তরের বিকর্ম বিনাশ হবে । না হলে অনেক সাজা ভোগ করতে হবে । কিছুই পদ প্রাপ্ত করতে পারবে না ।
বাচ্চারা এখন জানে যে, বাবা আমাদের সহজ পথ বলে দেন । তিনি বলেন – মন্মনাভব । গীতাতেও এই শব্দ রয়েছে, কিন্তু এর অর্থ কেউই বুঝতে পারে না । বাবা বলেন — তোমরা আমাকে ( মামেকম্ ) স্মরণ করো । দেহ সহ দেহের সব ধর্ম ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করে আমি পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ করো । এই স্মরণকেই যোগ অগ্নি বলা হয়, যোগ হলো কমন শব্দ । গীতাতেও এই শব্দ আছে, কিন্তু কেবলমাত্র কৃষ্ণের নাম দিয়ে দেওয়াতে ঘোর অন্ধকারময় করে দিয়েছে । তোমরা যখন, এখন বুঝতে পারো, তখন ওরা বলে দেয়, এ তোমাদের কল্পনা । কিছুই জানতে পারে না । ওরা তো এই উত্তরাধিকার নেবেই না । প্রথমে তো এই কথা বুঝবে যে, ইনি হলেন অসীম জগতের পিতা, ইনি বাবাও, টিচারও আবার সদগুরুও । তিনিই আমাদের পড়ান । একথা দৃঢ় ভাবে নিশ্চিত হওয়া দরকার । নতুন মানুষদের নিশ্চয় এসে যাবে, এ অসম্ভব । কোনো কোনো নতুন বাচ্চা এতটাই সচেতন যে, তারা বুঝে যায় । কেউ তো আবার এখানে আসতেই চায় না, কিছুই বুঝতে পারে না । সামান্যতমও তাদের বুদ্ধিতে আসে না । এতো বি.কে আছে, নিশ্চই এরা বাবার থেকে উত্তরাধিকার পেয়েছিলো । এরা পারিবার হয়ে গিয়েছিলো । নামও লেখা আছে – ব্রহ্মাকুমার – ব্রহ্মাকুমারী, তাহলে তো পরিবার হয়ে গেলো, তাই না । প্রজাপিতা ব্রহ্মার পরিবার কতো বড়, কিন্তু এই কথা কারোর বুদ্ধিতেই আসতে পারে না । কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, তোমাদের এইম অবজেক্ট কি ? বলো, বাইরে বোর্ডে লেখা আছে — প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমার – কুমারী, তাহলে তো পরিবার হয়ে গেলো । দাদুর থেকে উত্তরাধিকার পাওয়া যায় । প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখের দ্বারা শিববাবা রচনা করেন । তাহলে তিনি রচয়িতা হলেন, তিনি স্বর্গের রচনা করেন, তাহলে অবশ্যই তিনি বাচ্চাদের স্বর্গের উত্তরাধিকার দান করবেন । তাহলে এ তো পরিবার হয়ে গেলো । বাবা, ছেলে, মেয়ে আর দাদা আছেন । ব্রহ্মাও আছেন, আবার শিবও আছেন । তিনি হলেন রচয়িতা । তিনি নিরাকার, তাহলে বাচ্চাদের উত্তরাধিকার কিভাবে দেবেন । তিনি ব্রহ্মার দ্বারা উত্তরাধিকার দান করেন । এ খুব ভালোভাবে বোঝানো উচিত । বলো, এ তোমাদের বাবার ঘর । একে বলা হয় রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ । আমরা হলাম ব্রাহ্মণ, বাবা ছাড়া আর কেউই রাজযোগ শেখাতে পারেন না । গীতাতেও আছে — মন্মনাভব অর্থাৎ মামেকম্ ( আমাকে ) স্মরণ করো । তাই আমরা ওই এক বাবারই স্মরণ করি । ভক্তিমার্গে এমন গাওয়া হয় — বাবা আপনি যখন আসবেন, তখন আমরা বলিহারি যাবো, আমরা আপনার হয়ে যাবো । আমরা আত্মারা এই দেহ ত্যাগ করে আপনার সঙ্গে চলে যাবো । আপনার হলে, অবশ্যই আপনার সঙ্গেই যাবো । বিবাহ বন্ধন যখন হয়, তখন সাজন বা প্রেমিকই তো সাথে করে নিয়ে যাবে, তাই না । এই শিব সাজনও বলেন – আমি তোমাদের এই দুঃখ থেকে মুক্ত করে সুখধামে নিয়ে যাবো । তারপর তোমরা নিজেদের পুরুষার্থ অনুসারে গিয়ে রাজত্ব করবে, যে যতটা জ্ঞান ধারণ করবে, তত উঁচু পদ পাবে । ছোটো – ছোটো কুমারীরাও সেবা করছে । ওদেরই বড় – বড় বিদ্বান, পণ্ডিত ইত্যাদিদের বোঝাতে হবে, এই শখ থাকা চাই । কুস্তি যখন হয় তখন বড় – বড় চ্যালেঞ্জ দেয় যে, এর সাথে আমি লড়বো । সেবা পরায়ণ বাচ্চাদের আরামের সঙ্গে শুয়ে থাকা উচিত নয় । এই সেবাতে পরিক্রমা করা উচিত । আজকাল বাবা অনেক প্রদর্শনী করান । বড় – বড় মানুষদের নিমন্ত্রণ পাঠিয়ে দাও । এখন না হলেও তারা পরে আসবে । সাধু – সন্ত, মহাত্মা, যেই হোক না কেন, তোমরা জাগাতে থাকো, কিন্তু কথা বলার জন্য মহারথীদের চাই । বাবার সঙ্গে যার যোগ নেই, ভালোবাসা নেই, সে তো যেন খালি বা অপূর্ণ বাদল । তারা আর কি করবে । এ তো জানো যে শিক্ষিতের সামনে অশিক্ষিত মূল্যবান হয়ে যাবে । প্রত্যেকেই নিজেকে বুঝতে পারে যে, আমরা কতো পর্যন্ত পড়েছি । সেবা করে দেখাই । যদি মেঘ পরিপূর্ণ থাকে আর বর্ষণ না করাতে পারে তাহলে সেই মেঘ কি কাজের । প্রত্যেকেরই নিজের বুদ্ধি চাই । দেহ অভিমানের অপ্রয়োজনীয় নেশায় যদি থাকো তাহলে উঁচু পদ সর্বদার জন্য হারিয়ে ফেলবে । বাবার তো সেবার কতখানি শখ রয়েছে । গভর্নমেন্টকে বোঝানো উচিত যে, আমাদের একটা হল দাও, যেখানে আমরা এই আধ্যাত্মিক সেবা করে মানুষকে দেবতা বানাতে পারি । বাবা এসেছেনই এই রাজযোগ শেখাতে, যা খুব যুক্তি সহকারে বোঝানো উচিত । যারা ভাষণই করতে পারে না, তারা তো বোঝাতেই পারবে না । উঁচু পদও তখন পেতে পারবে না । তারাই পদ পেতে পারবে যারা সেবা করবে । বড়দের লিখে জানাও যে, এই জ্ঞান ছাড়া ভারতের বা সম্পূর্ণ দুনিয়ার কল্যাণ হতে পারবে না । জ্ঞান হলো মূখ্য । এই লক্ষ্মী – নারায়ণও তো জ্ঞানের দ্বারাই এই পদ পেয়েছে, তাই না । আগের জন্মে এরা রাজযোগ শিখেছে । আমরাও এখন এখানে পড়ছি । স্কুলে স্টুডেন্টস মনে করে, আমরা এই পরীক্ষা দিয়ে তারপর গিয়ে এই হবো । তোমরা যে এই জ্ঞান পাও, তা এই দুনিয়ার জন্য নয় । তোমরাও পড়ো ভবিষ্যৎ ২১ জন্মের প্রালব্ধ অর্জনের জন্য । ওরা পড়ে এই জন্মের সুখের জন্য । তাই ওই পড়াও পড়তে হবে, আর সাথে সাথে এই শিক্ষাও শিখতে হবে, এতে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই । আধ্যাত্মিক জ্ঞান কেন নেবে না ? তোমাদের চিত্র নিয়ে গিয়ে বোঝানো উচিত । বলো — জ্ঞান সকলের জন্য খুবই জরুরী, কিন্তু সব বাচ্চারা আগ্রহ নিয়ে উপস্থিত হয় না । চাকরী – বাকরি করেই আটকে থাকে । বন্ধনমুক্ত হলে তো সেবাতে লেগে যাওয়া উচিত । শ্রীমৎ অনুযায়ী তো সবাই চলবে না । মাঝে আবার মায়া অনেক সমস্যা তৈরী করে । কোনো – কোনো বাচ্চাদের অনেক শখ কিন্তু নেশা চড়ে না যে, আমরা গিয়ে অনেকের কল্যাণ করি । তাই বাবাও বোঝেন, বড় হয়ে গিয়েও কেন তোমরা এখনো বাধাগ্রস্ত হও । তোমরা বলতে পারো, আমাদের তো ভারতের উদ্ধার করতে হবে । প্রকৃত সেবা করে মানুষকে দেবতা বানাতে হবে । বাবার তো আশ্চর্য লাগে যে, তোমাদের নেশা চড়ে না, তাই তিনি মনে করেন, তোমাদের রজঃ বুদ্ধি । তোমাদের সুযোগ খুব ভালো । এমনও অনেকে আছে যাদের জ্ঞানের খুব অহংকার, তারা অনেক ডিসসার্ভিস করে। এ তো গুড় জানে আর গুড়ের পুঁটলি জানে (শিব বাবা আর ব্রহ্মা বাবা ) । তাদের রাহুর গ্রহণ লেগে যায় । বৃহস্পতির দশা নেমে গিয়ে রাহুর দশা বসে যায় । এখনই দেখো ভালো চলছে, আবার এখনই দেখো আবার গ্রহণ লেগে গেলো, তখন পড়ে যায় । বাচ্চাদের তো খুব বাহাদুর হওয়া উচিত । গুরু দায়িত্ব তুলে নিতে হবে । আমরা এই ভারতকে স্বর্গবাসী বানিয়েই ছাড়বো । তোমাদের ধর্মই হলো নরকবাসীকে স্বর্গবাসী বানানো, ভ্রষ্টাচারীকে শ্রেষ্ঠাচারী বানানো । বাবা তো খুব সুন্দর নেশা তৈরী করে দেন, কিন্তু বাচ্চাদের তা নম্বরের ক্রমানুসারে চড়তে থাকে । আচ্ছা ।
মিষ্টি – মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা – পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।
ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-
১ ) বন্ধনমুক্ত হয়ে ভারতের প্রকৃত সেবা করতে হবে । আধ্যাত্মিক সেবা করে মানুষকে দেবতা বানাতে হবে । জ্ঞানের অহংকার আনবে না । আধ্যাত্মিক নেশায় থাকতে হবে ।
২ ) নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে প্রথমে নিজের অবস্থা দৃঢ় করতে হবে । দেহ সহ যা কিছুই দেখা যায়, তা ছিন্ন করতে হবে, এক বাবার সঙ্গে জুড়তে হবে ।
বরদানঃ-
কোনো ব্যর্থ সঙ্কল্প বা পুরানো সংস্কার দেহ বোধের সম্বন্ধ থেকে আসে, আত্মিক স্বরূপের সংস্কার বাবার সমান হবে । বাবা যেমন সদা বিশ্ব কল্যাণকারী, পরোপকারী, দয়ালু, বরদাতা — এমনই নিজের সংস্কারও যেন তেমনই স্বাভাবিক হয়ে যায় । সংস্কার তৈরী হওয়া অর্থাৎ সঙ্কল্প, বাণী এবং কর্ম সেই অনুযায়ী চলা । জীবনে সংস্কার হলো একটি চাবি, যার দ্বারা সততঃই চলতে থাকে । তখন পরিশ্রম করার প্রয়োজন থাকে না ।
স্লোগানঃ-
➤ Daily Murlis in Bengali: Brahma Kumaris Murli Today in Bengali
➤ Email me Murli: Receive Daily Murli on your email. Subscribe!